class 9 গ্রহরূপে পৃথিবী - প্রথম অধ্যায় থেকে মান 5 এর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আলোচনা । Geography
1) পৃথিবী অভিগত গোলক হল কেন?
উত্তর:- জন্মের পর থেকেই পৃথিবী মেরুরেখা বা অক্ষের উপর প্রবল বেগে ঘুরে চলেছে। মাঝবরাবর পৃথিবীর আবর্তনবেগ বেশি হওয়ায় এখানে কেন্দ্রাতিগ বল (Centrefugal force) বেশি। এই বল বস্তুকণাসমূহকে বাইরের দিকে অপসারিত করে। পৃথিবী যখন তরল বা নরম ছিল তখন কেন্দ্রাতিগ বলের কারণেই পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চল হয়েছে স্ফীত এবং মেরুপ্রদেশ চাপা।
2) দক্ষিণ মেরু একটু বেশি চাপা হয়েছে কেন?
উত্তর:-পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই এমনটি..। এর কারণ হল পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে। আবর্তন বেগ দুই মেরু মাঝখান তথা বিষুব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আর মেরুতে কম। মূল কারণেই দক্ষিণ মেরু একটু বেশি চাপা হয় ।
3) Geoid ধারণাটির ব্যাখ্যা দাও ?
উত্তর :- গ্রিক শব্দ জিও এর অর্থ পৃথিবী এবং ইয়ড এর অর্থ হল দর্শন বা দেখা যা থেকে ইংরেজিতে জিয়ড শব্দটি এসেছে অর্থাৎ পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীর মতোই, যাকে ইংরেজিতে Geoid বা জিয়ড বলে।
• ভূপৃষ্ঠে উচুঁ নিচু পাহাড়,পর্বত, মালভূমি, নদী, সমুদ্র অবস্থান করলেও পৃথিবীর আকৃতি এবড়ো খেবড়ো নয় বরং পৃথিবী বেশ মসৃণ। পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোল নয় আবার পৃথিবী উপর ও নিচের অংশ কিছুটা চাপা ও মধ্য ভাগ স্ফীত বলে আমরা অনেক সময় পৃথিবীকে কমলালেবু বা ন্যাস্পতির আকৃতির সঙ্গে তুলনা করে থাকি কিন্তু পৃথিবীর আকৃতির সঙ্গে কমলালেবুর কিছুটা মিল থাকলেও পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ কমলালেবুর মতো নয় এর থেকে প্রমাণ হয় পৃথিবীর আকৃতি কারোর সাথে তুলনীয় নয়। পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীর মতো যাকে ইংরেজিতে জিওয়েড বলে।
4)এরাটোসথেনিস পৃথিবীর পরিধি কীভাবে নির্ণয় করেন ?
উত্তর :-খ্রিস্টের জন্মের প্রায় 200 বছর আগে এরাটস্থেনিস নামে একজন গ্রীক পন্ডিত প্রথম মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া ও সিয়েন শহর দুটির ওপর মধ্যাহ্ন সূর্যরশ্মির পতনকোণের তারতম্য বিচার করে বিস্ময়করভাবে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেছিলেন। আলেকজান্দ্রিয়া ও সিয়েন শহর দুটি একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত হলেও শহর দুটির অক্ষাংশ এক নয়। সিয়েন 231½° উত্তর অক্ষাংশ বা কর্কটক্রান্তি রেখায় অবস্থিত এবং আলেকজান্দ্রিয়া আর একটু উত্তরে 301½° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। 21 শে জুন অর্থাৎ কর্কটসংক্রান্তির দিন এরাটস্থেনিস লক্ষ্য করলেন, মধ্যাহ্নে (বেলা 12 টা) সূর্যরশ্মি ঠিক সিয়েন শহরের উপর পড়লেও আলেকজান্দ্রিয়া শহরে সূর্যরশ্মির পতনকোণ 7°12'। তিনি হিসাব করলেন ভূপৃষ্ঠ গোলাকার (360°), সুতরাং 7°12' কৌণিক দূরত্ব গোলাকার পৃথিবীর 1/50 ভাগ (360° +7°12°=50)। সিয়েন ও আলেকজান্দ্রিয়া শহর দুটি দূরত্ব 5,000 স্টেডিয়া (1) স্টেডিয়া= 185 মিটার)। এজন্য এরাটস্থেনিসের হিসেবে পৃথিবীর পরিধি হলো (5,000 × 50 = 2,50,000 স্টেডিয়া) 46,250 কিলোমিটার। (বর্তমানে প্রমাণিত হয়েছে যে, পৃথিবীর গড় পরিধি প্রায় 40,000 কিলোমিটার। সুতরাং, এরাটস্থেনিসের পৃথিবীর পরিধি নির্ণয়ে খুব বেশি ভুল ছিল না।)
5) পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দন বলতে কি বোঝো ?
উত্তর:- পৃথিবীর প্রাণ স্পন্দন বলতে বুঝি :-
১)পৃথিবী সূর্যের থেকে এমন একটি দূরত্বে অবস্থিত যেখানে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা জীবকুলের বিকাশের অনুকূল।
২)পৃথিবীতে প্রাণের উৎস পৃথিবীর চারিদিকে বেষ্টন করে থাকা বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন গ্যাসের প্রাধান্য।
৩)জীবনধারণের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান, আবর্তন গতির জন্য পৃথিবীতে যে পর্যায়ক্রমিক দিনরাত্রি ঘটে তা উষ্ণতার সমতা বজায় রাখে,যা প্রাণসঞ্চার-এর অনুকূল পরিবেশ।
৪)পৃথিবীর ভূত্বকের উপরে যে নরম আবরণ রূপে মাটি গড়ে উঠেছে তা জীবজগতের ধারক ও বাহক।
6) বামনগ্রহের সংজ্ঞা দাও ?
উত্তর:-বামন গ্রহ: IAU-র মতে যে সকল জ্যোতিষ্ক-(১) সূর্যের চারপাশে পরিক্রমণ করে অথচ উপগ্রহ নয়, (২) জ্যোতিষ্কটি পর্যাপ্ত ভরযুক্ত যা উদস্থিতিক ভারসাম্য বজায় রাখা ও আকৃতি তার গোলাকার হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট, কিন্তু (৩) জ্যোতিষ্কটি নিজ কক্ষপথের নিকটস্থ অঞ্চল থেকে অন্য সকল মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে ফেলতে পারে না।
7) পৃথিবীর গোলীয় আকৃতির স্বপক্ষে প্রমাণ দাও?
উত্তর:-(১) মহাকাশ থেকে পৃথিবীর আকৃতি ও অন্যান্য গ্রহের আকৃতি: কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে ছবি তোলা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর আকৃতি গোল। দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবী ছাড়া বাকি গ্রহগুলোকেও গোলাকার দেখায়। অতএব সূর্য থেকে একইভাবে সৃষ্ট বাকি গ্রহগুলি সমেত পৃথিবীও গোলাকার হয়েছে।
(২) নাবিকদের পৃথিবী পরিভ্রমণ: কোনো স্থান থেকে ক্রমাগত পূর্ব, পশ্চিম উত্তর বা দক্ষিণে দিক পরিবর্তন না করে যেদিকেই যাওয়া যাক না কেন যাত্রাস্থলেই আবার ফিরে আসতে হবে। প্রাথমিক যুগে পোর্তুগিজ নাবিক ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান বা ইংরেজ নাবিক ড্রেক ক্রমাগত জাহাজ চালিয়ে তাঁরা স্বস্থানেই ফিরে আসেন।
(৩) চন্দ্রগ্রহণে পৃথিবীর ছায়া : পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়লেই চন্দ্রগ্রহণ হয়। চন্দ্রগ্রহণের সময় তোমরা সবাই খেয়াল করেছো ছায়াটা কেমন বাঁকা। গোলাকার পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে বলেই আমরা এরূপ দেখি ।
8) দিগন্তরেখার বিস্তৃতি ও বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষার যার কীভাবে প্রমাণিত হয় পৃথিবী গোলাকার?
উত্তর:- ১৮৭০ সালে অলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস নামে বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড খালের উপর পরিক্ষা করেন এবং যেটি জানা যায় যে পৃথিবীর মোটামুটি গোলাকার আকৃতি স্থল স্তর, উড্ডয়ন বা কক্ষপথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের পর্যবেক্ষণ দ্বারা পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণিত হতে পারে । গোলাকার আকৃতি অনেকগুলি প্রভাব এবং ঘটনা ঘটায় যা সমতল পৃথিবীর বিশ্বাসকে অস্বীকার করে । এর মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর পৃষ্ঠে দূরবর্তী বস্তুর দৃশ্যমানতা; চন্দ্রগ্রহণ; চাঁদের চেহারা; উচ্চতা থেকে আকাশ পর্যবেক্ষণ; বিভিন্ন স্থান থেকে নির্দিষ্ট স্থির তারার পর্যবেক্ষণ; সূর্য পর্যবেক্ষণ; পৃষ্ঠ নেভিগেশন; একটি গোলাকার পৃষ্ঠে গ্রিড বিকৃতি; আবহাওয়া ব্যবস্থা; মাধ্যাকর্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি।
9) পৃথিবীর অভিগত গোলীয় আকৃতির স্বপক্ষে প্রমাণগুলির ব্যাখ্যা করো?
উত্তর:- প্রশ্ন নাম্বার 7 ভালো করে লক্ষ্য করে এবং ওই উত্তরটি হবে ।
10) পৃথিবী মানুষের বাসযোগ্যরূপে কীভাবে তৈরি হল?
উত্তর:-মানুষের আবাসস্থলরূপে পৃথিবী একমাত্র ভরসা বা গ্ৰহ যেখানে মানুষ বসবাস করে ।
(১) সূর্য থেকে দূরত্ব: সূর্য থেকে পৃথিবী এমন দূরত্বে রয়েছে যে ঠিক ঠিক তাপ পায়। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৭° সে.-যা জীবকুল বেঁচে থাকার সহায়ক। সূর্যের কাছের গ্রহগুলোর উয়তা ৫০০° সে. অতিক্রম করে, আবার দূরের গ্রহগুলোর উয়তা থাকে হিমাঙ্কের ২০০° সে.-এর নীচে।
(২) আপেক্ষিক গুরুত্ব: পৃথিবীর গড় আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific gravity) ৫.৫ গ্রাম, যেখানে সবচেয়ে হালকা গ্রহ শনির মাত্র ৭৫ গ্রাম। অন্যান্য গ্রহের থেকে পৃথিবীর ঘনত্ব বেশি বলেই পৃথিবীতে ভূত্বক গঠিত হয়েছেন।
(৩) বায়ুমণ্ডল: পৃথিবীতেই একমাত্র বায়ুমণ্ডল রয়েছে। পৃথিবীর উপরে ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত অংশ বায়ুমণ্ডলের অংশ। বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস এবং জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা আছেবলেই আমরা বেঁচে আছি। ওজোনস্তর ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করছে। (৪) জল: পৃথিবীতেই একমাত্র মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান রসদ জল রয়েছে। তাই এটি 'জলগ্রহ' (Watery Planet) বা 'নীলগ্রহ' (Blue Planet)। পৃথিবীর ৭০% অংশ জলে ঢাকা। তাই জল যেমন জলচক্রে (Hydrological
৪) জল: পৃথিবীতেই একমাত্র মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান রসদ জল রয়েছে। তাই এটি 'জলগ্রহ' (WateryPlanet) বা 'নীলগ্রহ' (Blue Planet)। পৃথিবীর ৭০% অংশ জলে ঢাকা। তাই জল যেমন জলচক্রে (Hydrologica) Cycle) অংশগ্রহণ করে তেমনি মহাসমুদ্রগুলো উন্নতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
(৫) ভূ-ত্বক: পৃথিবীর উপরে রয়েছে কঠিন আবরণ ভূত্বক, যাতে রয়েছে মাটি ও বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য। মাটির উপর গাছপালা জন্মায়। খনিজকে আমরা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করি। তাহলে দেখছ পৃথিবীতে শিলামণ্ডল (Lithosphere), বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) ও বারিমণ্ডল (Hydrosphere) আছে বলেই তৈরি হয়েছে উদ্ভিদ, প্রাণী এবং আমাদের নিয়ে জীবমণ্ডল (Biosphere)। বেঁচে থাকার সকল রসদ একমাত্র পৃথিবীতেই রয়েছে।
11 ) GPS-এর ব্যবহার উল্লেখ করো ? বা লেখ ?
উত্তর :-
১) বিমানে এই যন্ত্র রাখা থাকে, যা বিমান চলাচলে সাহায্য করে।
(২) জাহাজ, স্টিমার এমনকি নৌকাতেও এই যন্ত্র রাখা হয়-যা দিয়ে নাবিক সঠিক অবস্থান জেনে নিতে পারে।
(৩) মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেলে এই যন্ত্র রাখা হচ্ছে। এই যন্ত্র দিয়ে অপরিচিত ।
(৪) জরিপকার্য ও মানচিত্র তৈরি এই যন্ত্র অসম্ভব কার্যকারী ।
(৫) এই পদ্ধতির সাহায্যে মোবাইল ফোনের অবস্থানের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ করা সম্ভব হয় ।
৬) এই প্রযুক্তির সাহায্যে দুর্ঘটনাস্থানের অবস্থান সহজেই চিহ্নিত করা যায় ফলে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করা যায় ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন